ক্রিকেটার সানির জামিন মঞ্জুর

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানি। মামলার বাদী তরুণী সানির জামিনে আপত্তি নেই বলে জানালে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল জানান, সানির স্ত্রী বলে দাবি করা ওই তরুণী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেছেন, সানির সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে। তারা ঘরসংসার করবেন। তাই তার (সানি) জামিনে তার (তরুণী) কোনো আপত্তি নেই। শুনানি শেষে আদালত সানির এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
এর আগে সানিকে স্বামী দাবি করা এই তরুণী সানির বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় তথ্য পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা হয়। সর্বশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সানি ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় সানির মা আগেই জামিন পান। প্রথম দুটি মামলায় সানি কারাগারে আছেন।

দূষিত পরিবেশে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ১৭ লাখ শিশু: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা



অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিশ্বে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নতুন দুই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিবছর ১৭ লাখ শিশু মারা যাচ্ছে দূষিত পরিবেশের কারণে। সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল মার্গারেট চ্যান বলেন, ‘দূষিত পরিবেশ বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুদের জন্য ভয়াবহ।’ তিনি জানান, শিশুদের বিকশিত হতে থাকা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দূষিত বায়ু ও পানির অধিকতর ঝুকিতে থাকে।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করে এবং রান্নার জ্বালানি পরিস্কার করার মাধ্যমে ১মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুমৃত্যু প্রতিহত করা সম্ভব। প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও নিউমোনিয়া।
দূষনের মধ্যে সবথেকে প্রাণহাতি বায়ু দূষন। এর ফলে প্রতিবছর ৫ বয়স অনুর্ধ্ব ৫ লাখ ৭০ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। বায়ুদূষণের ফলে মস্তিষ্কের বিকাশ স্থবির হয়ে যেতে পারে। কমে যেতে পারে ফুসফুসের সক্রিয়তা। ফলে শিশুরা আক্রান্ত হয় অ্যাজমায়। দীর্ঘমেয়াদে বায়ু দূষণ পরবর্তীতে শিশুদের হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়ায়।
এমন দূষণ থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা, বায়ু দূষণ কমানো, নিরাপদ পানি ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, গর্ভবর্তী নারীদের সুরক্ষা ও অধিক নিরাপদ পরিবেশ গঠনের সুপারিশ করেছে।    
ডব্লিউএইচও পরিচালক মারিয়া নেইরা বলেন, ‘স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশগত ঝুকি নির্মূলের জন্য বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ব্যপক স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া সম্ভব- যেমন পানির মান উন্নয়ন করা বা পরিচ্ছন্নতর জ্বালানি ব্যবহার করা।’
সংস্থাটির দ্বিতীয় রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য নতুন পরিবেশগত ঝুকি হয়ে উঠছে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য। যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহারোপযোগী  না হওয়া পুরোনো মোবাইল ফোনের মতো যন্ত্রপাতিগুলো বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, মনোযোগে ঘাটতি, ফুসফুসে ক্ষতি এবং ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
বর্তমানে হারে চলতে থাকলে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মধ্যে এমন বর্জ্য ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যার পরিমান দাড়াবে ৫ কোটি মেট্রিক টন।
এছাড়াও, রিপোর্টে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো ফুড চেইনের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করে। এমন রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রয়েছে ফ্লুয়োরাইড, সীসা ও পারদ।

উত্তর কোরিয়া-মালয়েশিয়া কুটনৈতিক টানাপড়েন, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা





মালয়েশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উং এর সৎভাই কিম জং ন্যাম হত্যাকান্ডের পর দু’দেশের মধ্যে কুটনৈতিক টানাপড়েন তুঙ্গে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি। জবাবে, উত্তর কোরিয়ান দূতাবাস কর্মকর্তাদের দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মালয়েশিয়া। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। গত মাসে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে কিম জং ন্যাম হত্যাকান্ডের ঘটনায় মালয়েশিয়ার তদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় উত্তর কোরিয়া। এর জের ধরে দু দেশের মধ্যে সৃষ্টি হয় কুটনৈতিক টানাপড়েন।
মালয়েশিয়া এ হত্যাকান্ডে উত্তর কোরিয়ান সরকারকে সরাসরি দোষারোপ না করলেও, ধারণা করা হয় এর পেছনে পিয়ংইয়ংয়ের হাত রয়েছে। এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে উত্তর কোরিয়। সেই সাথে তারা তদন্তে গোলমালের অভিযোগ এনেছে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।   
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে ক্রমাগত। মালয়েশিয়া, উত্তর কোরিয়া উভয় দেশই ইতিমধ্যে একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দেশটিতে অবস্থানরত মালয়েশিয়ানদের উত্তর কোরিয়া ছাড়তে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, ‘মালয়েশিয়ায় হওয়া ঘটনা যথাযথভাবে সমাধা হওয়ার আগ পর্যন্ত’ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে, সেখানে অবস্থানরত মালয়েশিয়ানরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের দৈনন্দিন কাজ সারতে পারবেন।
এ ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা পর মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়ে জানান, উত্তর কোরিয়ান দূতাবাস কর্মকর্তা ও কর্মীরা দেশ ছাড়তে পারবেন না। মালয়েশিয়ার স্টার মি. হামিদিকে উদ্বৃত করে জানিয়েছে, ‘আমরা এটা করতে চাই না, কিন্তু এটা করা প্রয়োজন। হত্যাকান্ডের ঘটনা তারা যেভাবে ব্যবহার করেছে, তেমন সঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপ আমাদের নেয়া প্রয়োজন।’
দু’দেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা কতজন ব্যক্তির ওপর প্রভাব পড়বে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি।  

হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের নির্দেশ



রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা সকল ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ লক্ষ্যে ট্যানারি কারখানাগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে ট্যানারি বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কাজে সহযোগিতা করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গত ৩রা  জানুয়ারি হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি আবেদন করেন। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ফিদা এম. কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। শিল্প সচিবের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দীন আহমদ। রিজওয়ানা হাসান গতকাল সাংবাদিকদের জানান, ট্যানারি কারখানাগুলো বন্ধসহ তাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে এ আবেদন করা হয়। আদালত অবিলম্বে ট্যানারিগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৬ই এপ্রিল দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ১৬ই জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা না সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫৪ ট্যানারি মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয়  কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ট্যানারি মালিকরা এ বিষয়ে আপিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ জরিমানার টাকা কমিয়ে দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু ট্যানারি না সরানো ও জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৫শে জানুয়ারি শিল্প সচিবকে আদালতে তলব করা হয়। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি শিল্প সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আদালতে হাজির হয়ে জানান, হাজারীবাগে দেড়শর বেশি ট্যানারি কারখানার কাছে ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পরে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের এক সম্পূরক আবেদনে শুনানি শেষে গত ২রা মার্চ বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে ট্যানারি কারখানাগুলোকে বকেয়ার টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

ওবামার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ উড়িয়ে দিলো এফবিআই



যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ফোনে আড়ি পাতার যে অভিযোগ এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তা উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। এফবিআইর প্রধান জেমস কমি আইন মন্ত্রণালয়কে বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ যাতে মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন চলাকালে তার ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দেন ওবামা। ওবামার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এফবিআই প্রধান জেমস কমি আইন মন্ত্রণালয়কেও একইভাবে প্রেসিডেন্টের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করতে বলেছেন। কমি এক্ষেত্রে কারণ হিসেবে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অভিযোগ এক ধরনের মিথ্যা ইঙ্গিত যে, এফবিআই আইন ভঙ্গ করেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, প্রথম এ খবর প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও পরে এনবিসি।
তবে জেমস কমির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। মার্কিন মিডিয়ায় বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জেমস কমির বিশ্বাস প্রেসিডেন্টের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বিবিসির খবরে বলা হয়, কোনো এফবিআই পরিচালক ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের অবস্থান নেয়াটা বেশ বড় ধরনের ঘটনা। ডেমোক্রেটরা এখন এ নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাপ দেবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনে রাশিয়া নাক গলিয়েছে এমন অভিযোগে বেশ কড়া তদন্ত চলছে আমেরিকায়। এরই মাঝে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনলেন ট্রাম্প। তিনি এর সঙ্গে কুখ্যাত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিরও তুলনা করেন। হোয়াইট হাউস থেকে কংগ্রেসকে এমন অনুরোধও জানানো হয় যে, ওবামা প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কিনা তা যাচাই করা হোক। বর্তমানে কংগ্রেস ও এফবিআই উভয়েই ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির ও রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে মূল্যায়ন করে জানিয়েছিল, তাদের বিশ্বাস রাশিয়া ট্রাম্পকে নির্বাচনে জেতাতে সাহায্য করেছে।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ



ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ। শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। কালজয়ী ভাষণে বজ্রকণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেদিনের অগ্নিঝরা ভাষণে জাতির উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো, এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্‌।’ বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান উল্কার বেগে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। স্বাধীনতার স্বপ্নে জেগে ওঠে পুরো জাতি। ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ঐতিহাসিক এই দিনটিকে উপলক্ষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে
ভোর সাড়ে ছ’টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় দেশের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতি পাড়া, মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সভা-সমাবেশের আয়োজন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে ৭ই মার্চ পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে শক্তি ও সাহস যোগাবে। আমাদের মহান নেতার এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরন্তন ও সর্বজনীন হয়ে থাকবে।

রিভিউ খারিজ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতেই হবে



ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত বিজিএমইএ (বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি)-এর ১৬ তলা ভবন ভেঙে ফেলতে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র করা রিভিউ আবেদন শুনানি শেষে গতকাল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ওই ভবন ভাঙতে কতদিন সময় লাগবে তা জানিয়ে আবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আবেদনের ভিত্তিতে ওই ভবন ভাঙার সময় নির্ধারণ করবেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হতে পারে। আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ?্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অ্যামিকাস কিউরি (হাইকোর্টের শুনানিতে) হিসেবে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে মনজিল মোরসেদ মানবজমিনকে বলেন,  ৯০ দিনের মধ্যে ওই ভবন ভাঙা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের দেয়া নির্দেশনা গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম ওই সময়ের মধ্যেই ভবন ভাঙা হবে। কিন্তু ভবন ভাঙার জন্য রাষ্ট্রপক্ষে ১ বছর ও বিজিএমইএ’র পক্ষে ৩ বছর সময় হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’র সঙ্গে একমত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন সময় চাইলেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। এখন সময়ের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হতে পারে।
বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল গতবছরের ২রা জুন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে অবিলম্বে বিজিএমইএকে নিজেদের খরচে ওই ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেয়া হয়। তা না করলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আর ভবন ভাঙার অর্থ  বিজিএমইএ’র কাছ থেকে আদায় করার নির্দেশনা দেয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে। পরে ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ তাদের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পাশে বেগুনবাড়ী খালপাড়ের এ জায়গা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছ থেকে জমিটি কিনে নেয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ওই বছরের ২৮শে নভেম্বর ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের অক্টোবরে এ ভবনের উদ্বোধন হয়। তবে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান লঙ্ঘন করে বেগুনবাড়ী খালের একাংশ ভরাট করার মাধ?্যমে ওই ভবন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। অন্যদিকে ভবনটি নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশাও অনুসরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছিল রাজউক। এ বিষয়ে একটি ইংরেজি  দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩রা অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১৯শে মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে ওই বছরের মে মাসে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। গত বছরের ২রা জুন আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকে।

গ্যাসের দ্বিতীয় ধাপের মূল্য বৃদ্ধি হাইকোর্টে স্থগিত

দুই ধাপে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় ধাপের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন?্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই গণবিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব’র (কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ ও রুল জারি করেন। বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।
গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিজ্ঞপ্তি দেয় বিইআরসি। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এই গণবিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ক্যাব। রিট আবেদনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের জারি করা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মো. সাইফুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। মো. সাইফুল আলম আদালতে উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন-২০০৪’ অনুযায়ী বছরে একবারের বেশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। অথচ এই দফায় একবারেই দুই ধাপে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে ৯০ দিন পর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। প্রসঙ্গত, আগামী ১লা মার্চ থেকে আবাসিক খাতে দুই চুলার জন্য ৮০০ এবং এক চুলার জন্য ৭৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। দ্বিতীয় ধাপে ১লা জুন থেকে দুই চুলা ৯৫০ এবং এক চুলার জন্য ৯০০ টাকা গুনতে হবে গ্রাহককে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব?্যবসায়ী মহল থেকে। সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বাম রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল রাজধানীতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল পালন ও সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে।

হঠাৎ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি


আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এবার আচমকা ধর্মঘটে নেমেছে সারা দেশের পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। দক্ষিণাঞ্চলে চলা ধর্মঘট প্রত্যাহার ঘোষণার পরের দিনই রাজধানীসহ সারা দেশে এ ধর্মঘট ডাকায় ভোগান্তিতে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। সরকারের মন্ত্রীরা এ ধর্মঘটকে অযৌক্তিক বললেও গতকাল পর্যন্ত তা প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা আসেনি। আদালতে ঘাতক চালককে গুরুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে কয়েকটি দাবিতে ধর্মঘট ডাকার কথা জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি কোনো পক্ষই। হঠাৎ ডাকা এই ধর্মঘটে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীতে দুর্ভোগে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। সকালের দিকে কিছুটা যানবাহন চলাচল করলেও বিকালে সড়কে ছিল না কোনো গণপরিবহন। এছাড়া, টার্মিনালগুলো থেকে কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। কোনো যানবাহন টার্মিনালে প্রবেশও করতে পারেনি পরিবহন শ্রমিকদের বাধায়। এমনকি রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহন থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয়ার চিত্রও দেখা গেছে কয়েকটি পয়েন্টে। এদিকে গতকাল রাত পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ধর্মঘটের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ঘোষণাও আসেনি তাদের পক্ষ থেকে। বিচ্ছিন্নভাবে বলা হয়েছে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। তবে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকেই সুনির্দিষ্ট কোনো দাবি উত্থাপন করা হয়নি। দুটি দুর্ঘটনার ঘটনায় আদালতের দেয়া রায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিকে রাজধানীতে কিছু যানবাহন চলাচল করায় ওইসব পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা বিভিন্নস্থানে মারধরের শিকার হয়েছেন। হেনস্তা করা হয়েছে যাত্রীদেরও। পরিবহন না থাকায় রাজধানীতে সাধারণ যাত্রীদের হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এদিকে নগরে কিছু পরিবহন চলাচল করায় এর প্রতিবাদে মালিক সমিতির নেতাদের অফিসও ঘেরাও করে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও চালক-শ্রমিকরা।