
ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত বিজিএমইএ (বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি)-এর ১৬ তলা ভবন ভেঙে ফেলতে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র করা রিভিউ আবেদন শুনানি শেষে গতকাল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ওই ভবন ভাঙতে কতদিন সময় লাগবে তা জানিয়ে আবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আবেদনের ভিত্তিতে ওই ভবন ভাঙার সময় নির্ধারণ করবেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হতে পারে। আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ?্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অ্যামিকাস কিউরি (হাইকোর্টের শুনানিতে) হিসেবে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে মনজিল মোরসেদ মানবজমিনকে বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে ওই ভবন ভাঙা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের দেয়া নির্দেশনা গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম ওই সময়ের মধ্যেই ভবন ভাঙা হবে। কিন্তু ভবন ভাঙার জন্য রাষ্ট্রপক্ষে ১ বছর ও বিজিএমইএ’র পক্ষে ৩ বছর সময় হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’র সঙ্গে একমত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন সময় চাইলেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। এখন সময়ের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হতে পারে।
বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল গতবছরের ২রা জুন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে অবিলম্বে বিজিএমইএকে নিজেদের খরচে ওই ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেয়া হয়। তা না করলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আর ভবন ভাঙার অর্থ বিজিএমইএ’র কাছ থেকে আদায় করার নির্দেশনা দেয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে। পরে ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ তাদের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পাশে বেগুনবাড়ী খালপাড়ের এ জায়গা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছ থেকে জমিটি কিনে নেয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ওই বছরের ২৮শে নভেম্বর ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের অক্টোবরে এ ভবনের উদ্বোধন হয়। তবে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান লঙ্ঘন করে বেগুনবাড়ী খালের একাংশ ভরাট করার মাধ?্যমে ওই ভবন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। অন্যদিকে ভবনটি নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশাও অনুসরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছিল রাজউক। এ বিষয়ে একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩রা অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১৯শে মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে ওই বছরের মে মাসে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। গত বছরের ২রা জুন আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকে।
0 comments: